Header ads

রমজানে দানের, ওমরার ফজিলত, রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়

রমজান: আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার এক অনন্য মাস

রমজান মাস, মানেই অন্যরকম একটা অনুভূতি! সারাদিন রোজা রেখে, ইফতারের সময় পরিবারের সঙ্গে বসে সেই মুহূর্তটা ভাগ করে নেওয়া—এর তুলনা হয় না। তবে শুধু উপোস থাকলেই তো রমজান হয় না, এর সঙ্গে আরও অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। রমজান আসলে আত্মসংযম, মানবিকতা আর ইবাদতের এক অনন্য সুযোগ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো 📖(সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)

 চলুন, রমজানের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটু অন্যভাবে কথা বলি।

The-Virtues-of-Giving-Charity-and-Performing-Umrah-in-Ramadan-What-to-Do-and-What-Not-to-Do-in-Ramadan

রমজানে দানের ফজিলত (মনের শান্তি আর আত্মার তৃপ্তি):

রমজান মাসে দান-খয়রাতের কথা তো সবাই বলে, কিন্তু এর আসল মানে কী? আমার মনে হয়, এটা শুধু টাকা-পয়সা বিলানো নয়। বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃখ-কষ্ট বোঝা। আর এই যে দেওয়ার আনন্দ, এটা কিন্তু অন্যরকম। মনটা কেমন যেন হালকা হয়ে যায়, ভেতর থেকে একটা শান্তি আসে।

রাসুল (সা.) বলেছেন—

 ‘যে ব্যক্তি রমজানে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াব এতটুকুও কমবে না।’ (তিরমিজি)

তাই এই মাসে শুধু দান নয়, বরং মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই আসল কথা।


রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত (আত্মার খোরাক):

কুরআন পড়া মানে শুধু আরবি অক্ষরগুলো আওড়ানো নয়। এর মানে হলো, নিজের ভেতরের চোখ-কান খোলা। কুরআনের কথাগুলো যখন বুঝি, তখন মনে হয় যেন জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি।

আল্লাহ বলেন—

 ‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য স্পষ্ট পথনির্দেশ ও ন্যায়নীতি।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

তাই রমজানে একটু সময় বের করে কুরআন নিয়ে বসলে, দেখবেন মনটা কেমন বদলে যায়।


রমজানে করণীয় ও বর্জনীয় (নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই):

রোজা রাখা মানে শুধু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করা নয়, এটা আসলে নিজের সঙ্গে নিজের একটা লড়াই। রাগ, লোভ, হিংসা—এই সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা।

করণীয়:

 ✅ সহানুভূতি ও দানশীলতা বৃদ্ধি করা

 ✅ বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করা

 ✅ সেহরি ও ইফতার সময় মতো করা

 ✅ অশ্লীলতা ও মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকা

বর্জনীয়:

❌ গীবত করা বা খারাপ কথা বলা

 ❌ অতিরিক্ত খাওয়া

 ❌ অলসতা ও সময়ের অপচয়

রমজান মানে শুধু না খেয়ে থাকা নয়, বরং নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করা।


রমজানে ওমরার ফজিলত (অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা):

যাদের সুযোগ আছে, তারা রমজানে ওমরাহ করে আসেন। মক্কা-মদিনার পরিবেশ অন্তত মনোমুগ্ধকর, অন্যরকম শান্তি যা বলে বোঝানো যাবে না।

রাসুল (সা.) বলেছেন—

 ‘রমজানে ওমরা করা একবার হজ করার সমতুল্য।’ (বুখারি, মুসলিম)

তবে যাদের সামর্থ্য নেই, তারা মন থেকে আল্লাহর কাছে তৌফিক পাওয়ার জন্য দোয়া করবো।


রমজানে ডায়েট চার্ট (সুস্থ থাকার সহজ উপায়):

রমজানে স্বাস্থ্য সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের উপর চাপ পড়ে। সঠিক ডায়েট অনুসরণ করলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে।

সেহরি:

✔ পর্যাপ্ত পানি পান করুন

 ✔ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (ডিম, দুধ, ডাল) খান

 ✔ আঁশযুক্ত খাবার (ওটস, চিড়া, শাকসবজি) রাখুন

ইফতার:

✔ খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করুন

 ✔ ভাজাপোড়া কমিয়ে ফল ও জুস খান

 ✔ বেশি মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন


রমজানে দ্রব্যমূল্য: বাজার গেলে তো চোখ কপালে ওঠে!

রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়ে যায়, এটা তো নতুন কিছু নয়। তবে আমার মনে হয়, আমাদের সবার একটু সচেতন হওয়া দরকার।

✅ বেশি জিনিস না কিনে, যতটুকু দরকার ততটুকুই কেনা

 ✅ মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের থেকে সতর্ক থাকা

 ✅ স্থানীয় ও সরকারি বাজার তদারকির উপর নজর রাখা


রমজানে আমার প্রস্তুতি: একটা অন্যরকম পরিকল্পনা

এই রমজানে আমি ঠিক করেছি, শুধু রোজা রাখব না, আরও কিছু ভালো কাজ করব। যেমন—

✅ রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন

✅ বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত

✅ দরিদ্রদের সাহায্য করা

✅ গীবত ও খারাপ কাজ এড়িয়ে চলা

✅ অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া পরিহার করা

✅ দোয়া ও ইস্তেগফার করা

এই রমজানটা যেন সবার জন্য আত্মশুদ্ধির মাস হয়ে ওঠে, সেই কামনাই করি। আপনি কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন?